Breaking News

মাটির মানুষ নেই মাটিতে, কী হবে ‘তাপদ্বীপ’ ঢাকার?

 

মাটির মানুষ নেই মাটিতে, কী হবে ‘তাপদ্বীপ’ ঢাকার?

মাটি ও মানুষের মধ্যে এক অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক রয়েছে। মাটি ছাড়া তো মানুষের টিকে থাকার কথা ভাবাই যায় না। কিন্তু যে মাটিতে দিগন্ত-বিস্তৃত সবুজ ফসলের ছড়াছড়ি থাকার কথা, সেখানে আকাশছোঁয়া ভবন। কোথাও এতটুকু খোলা জায়গা থাকলে তা কংক্রিট দিয়ে ঢেকে দেয়া হচ্ছে। ‘মাটির মানুষের’ জীবন এখন পরিপূর্ণ যান্ত্রিক হয়ে গেছে। রাজধানী ঢাকার এ ভয়াবহ চিত্র দেখে উদ্বিগ্ন বিশিষ্টজনেরা।

একটি আদর্শ শহরে ১৫ থেকে ২০ ভাগ সবুজ এলাকা এবং ১০ থেকে ১৫ ভাগ জলাশয় থাকতে হবে। কিন্তু ধীরে ধীরে ঢাকার সবুজ এলাকা ও জলাশয় কংক্রিটে ঢেকে যাচ্ছে। ঢাকা শহরের ফাইল ছবি


অল আমেরিকান ইনভায়রনমেন্টাল ওয়েবসাইট বলছে, পৃথিবীর উপরিভাগের নরম আবরণই কেবল মাটি না। মাটি এমন একটা বাস্তুসংস্থান, যেখানে নানা জীবসত্তা রয়েছে। আছে বিভিন্ন খনিজ ও অর্গানিক উপদানও। আর পানি ও অক্সিজেনের মতো অমূল্য সম্পদও ধারণ করে মাটি। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় মাটির ভূমিকা রয়েছে।

কত শতাংশ মাটি কংক্রিটে ঢাকা?

 

রাজধানীর ঢাকার ৮২ শতাংশের বেশি মাটি কংক্রিটে ঢাকা বলে দাবি করেছেন বিশেষজ্ঞরা। ২০২০ সালে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ঢাকা শহরের কেন্দ্রীয় নগর এলাকার কংক্রিট আচ্ছাদিত এলাকা ৮২ শতাংশ। আর জলাভূমির পরিমাণ মোট এলাকার চার দশমিক ৩৮ শতাংশ।

গেল চার বছরের এই তথ্য এখনও হালনাগাদ করা হয়নি। এ বিষয়ে বিআইপির সাধারণ সম্পাদক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ২০২০ সালের ওই প্রতিবেদন একেবারে পুরোনো হয়ে যায়নি। অনেকটা প্রাসঙ্গিক। পাঁচ বছর আগের পরিস্থিতির সঙ্গে বর্তমানে খুব একটা পার্থক্য তৈরি করবে না। আরও বছরখানেক পরে নতুন গবেষণা হতে পারে। তবে ঢাকার যে ৮২ শতাংশ ভূমি কংক্রিটে আচ্ছাদিত, এটা কমার সুযোগ নেই, বরং বেড়েছে।
 
বিআইপির গবেষণা বলছে, ঢাকায় প্রয়োজনের তুলনায় জলজভূমি ও সবুজ এলাকা খুবই কম। জলজভূমি ও খালি জায়গা কংক্রিটে ঢেকে যাচ্ছে। ফলে ঢাকা এখন বাসযোগ্যতার বৈশ্বিক মানদণ্ডে তলানিতে রয়েছে।
 
‘একটি আদর্শ শহরে ১৫ থেকে ২০ ভাগ সবুজ এলাকা এবং ১০ থেকে ১৫ ভাগ জলাশয় থাকতে হবে। কিন্তু ধীরে ধীরে ঢাকার সবুজ এলাকা ও জলাশয় কংক্রিটে ঢেকে যাচ্ছে।’

ঢাকা শহরের মাটির কত শতাংশ উন্মুক্ত আছে, তা বলা মুশকিল জানিয়ে বেসরকারি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম বলেন,

এটা ১০ শতাংশের নিচে আছে। কেউ বলেন, আট শতাংশ, কেউ বলেন পাঁচ শতাংশ। এটা পাঁচ থেকে ১০ শতাংশের মধ্যে আছে। এর বেশি না।

এটা ১০ শতাংশের নিচে আছে। কেউ বলেন, আট শতাংশ, কেউ বলেন পাঁচ শতাংশ। এটা পাঁচ থেকে ১০ শতাংশের মধ্যে আছে। এর বেশি না।

মাটি-মানুষে বিচ্ছিন্নতা

 

মানুষের সঙ্গে মাটির সম্পর্কের এই বিচ্ছিন্নতা নিয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘প্রথমত বাংলাদেশের জনসংখ্যার ঘনত্ব অনেক বেশি। শহরায়ন বাড়ছে। সারা দুনিয়ায় মানুষ নগরমুখী হচ্ছেন। একটা সময় দেখা যাবে, পৃথিবীর ৬৬ শতাংশ মানুষ শহর এলাকায় বাস করছেন।’
 
‘আট-দশ বছরের মধ্যে বাংলাদেশেরও ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ লোক শহরে বাস করবেন। নগরায়ন অপিরিকল্পিত হলে এই সমস্যা দেখা দেয়। সরকারের উচিত ছিল—শহর গড়ে ওঠার আগে সঠিক পরিকল্পনা করা। এখন জেলা শহরগুলোও সম্প্রসারিত হচ্ছে। পরে উপজেলা পর্যায়ে নগরায়ন চলে যাবে,’ বলেন এই শিক্ষক।

তিনি বলেন, ‘একটু দূরদর্শী হয়ে আগে থেকেই যদি পরিকল্পনা নেয়া হয়, তাহলে এই সমস্যা হয় না। একটা শহর বেড়ে গেলে সেটাকে ভেঙে ঠিক করা সম্ভব না। যে কারণে আগে থেকেই বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনার (ড্যাপ) মতো একটা পরিকল্পনা নেয়া যায়। ড্যাপ যখন করা হয়, তখন তো কোন এলাকা ফাঁকা রাখা হবে, তা বলা থাকে। কিন্তু ভূমিদস্যুরা এসে তা দখল করে নেয়।
 
‘দখল করার পর পরবর্তী ড্যাপে আবার সেটাকে আবাসিক এলাকা দেখিয়ে পাস করা হয়। জনসংখ্যার ঘনত্বের কারণে আমাদের খোলা জায়গা কম। আবার নগরায়নেও কোনো পরিকল্পনা থাকে না।’
 
ঢাকা শহরের খেলার মাঠের সংখ্যা কমে গেছে বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আখতার হোসাইন।
 
মানুষের সঙ্গে মাটির সম্পর্কের বিচ্ছিন্নতার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘কেন এমনটা হচ্ছে, সেটা আমরা সবাই জানি। খেলার মাঠগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। বাচ্চাদের যাওয়ার জায়গা তো খেলার মাঠ। আমরা যখন গ্রামে বড় হয়েছি, আমরা মাঠে যেতাম, ধানক্ষেতে যেতাম। ঢাকা শহরে সেই সুযোগ নেই।
 
তিনি বলেন, ‘এখন অনেক বেশি সংখ্যক মানুষ ঢাকামুখী। তাদের জায়গা দিতে গিয়ে খেলাধুলার জন্য যে জায়গাগুলো ফাঁকা থাকার কথা ছিল, যে লেক ও পুকুর থাকার কথা ছিল—সেখানে কংক্রিটের আকাশছোঁয়া ভবন হচ্ছে। এসব কারণে আমরা বড়রাও মাঠে যেতে পারি না। এর মনস্তাত্ত্বিক একটা দিক রয়েছে; প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক হারিয়ে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘পর্যাপ্ত খেলার মাঠ থাকতে হবে। ঢাকামুখী মানুষের স্রোত কমাতে হবে।’

স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞানের অধ্যাপক কামরুজ্জামান বলেন, ‘মানুষ মাটি-বিমুখ হয়ে যাচ্ছেন। আমাদের উন্নয়নের বয়ান ও ধারায় সবকিছুতেই পিচঢালা কাঠামোর কথা ভাবছি। স্কুলগুলোতে খেলার মাঠ নেই। সেগুলো গ্রাউন্ড হয়ে গেছে। মাঠগুলো পার্ক হয়ে গেছে। পার্কে তো মাটি রাখা হচ্ছে না। এতে মাটির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে।’

ঢাকা যেন ‘তাপদ্বীপ’


ঢাকা শহর এখন একটি তাপদ্বীপে পরিণত হয়েছে বলে জানান নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন,

এই শহরে স্বাভাবিকের চেয়ে ১০ থেকে ২০ ডিগ্রি বেশি তাপমাত্রা। দিন দিন আরও বেশি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ঢাকা। গত কয়েক দিনের তীব্র তাপপ্রবাহ দেখলেই সেটা বোঝা যায়।

 

‘যেটাকে আমরা বলি ‘আরবান হিট আইল্যান্ড’। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন হচ্ছে। আবার যখনই মাটির উন্মুক্ত জায়গাকে কংক্রিটে পরিণত করা হবে, তখন সূর্যের আলোয় সেটা বেশি উত্তপ্ত হয়ে যায়। মাটির খোলা জায়গার চেয়ে কংক্রিটে ঢাকা এলাকা বেশি তাপ শোষণ করে,’ বলেন এই শিক্ষক।
 
 
তিনি জানান,

উন্মুক্ত জায়গার চেয়ে যেখানে একটা গাছ আছে, সেটা অনেক ভালো। আর কিংক্রিট বা বিটুমিনের স্থাপনা যেখানে বেশি থাকে, সেখানে উত্তাপ অনেক বেশি হয়। নগর বিজ্ঞানীরা এটিকে বলেন, আরবান হিট আইল্যান্ড (নগর তাপদ্বীপ)।

 

যে কোনো দেশেই গ্রামের চেয়ে শহরের তাপমাত্রা পাঁচ থেকে শুরু করে ১৫ ডিগ্রি পর্যন্ত বেশি থাকে বলে জানান তিনি। সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রাম থেকে শহরে গেলেই তাপমাত্রা বেড়ে যাবে। তবে এটা দুই-তিন ডিগ্রি বেশি হলে গ্রহণযোগ্য। এর বেশি হলে অগ্রহণযোগ্য।’
 
ন্যূনতম মানদণ্ড বজায় রেখে শহর তৈরি না হওয়ায় এভাবে তাপমাত্রা বেড়ে যাচ্ছে বলে জানান এই শিক্ষক। তিনি বলেন, ‘শহরের যে স্থাপনা, সেটা সূর্যের আলো বেশি শোষণ করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আর গ্রামের স্থাপনা উত্তাপকে নিঃশেষ করে দেয়। গাছপালা, নদী ও পানির কারণে এটা হয়। একটা লোহাকে উত্তপ্ত করলে সেটা শীতল হতে সময় লাগে। লোহার তুলনায় পানি কম গরম হবে বা তাপ কম শোষণ করবে।’
 
তিনি বলেন, ‘এসব কারণে ঢাকা শহর তাপদ্বীপে পরিণত হয়ে গেছে। আমরা জলাধারগুলোকে সংরক্ষণ করিনি। এরপর ড্যাপের নিয়মানুসারে, প্রতিটি বাড়ি নির্মাণের সময় ফ্লোর অনুপাতে ৪০ শতাংশ জায়গা ছেড়ে দিতে হয়। তাপদ্বীপ পরিণত হওয়ার শঙ্কা ও ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার শঙ্কা থেকে এটা করা হয়েছিল।’
 

চল্লিশ শতাংশ জায়গা খোলা থাকলে বৃষ্টির পানি ভূগর্ভে সহজে চলে যেতে পারতো। আবার গাছপালা থাকলে তা তাপমাত্রা কমিয়ে আনতো। কিন্তু সেটা করা হয়নি।

 

সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘দেখা যাচ্ছে, চল্লিশ শতাংশ ভূমি খোলা রাখার কথা থাকলেও তা কংক্রিট দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়। এতে মাটি আর উন্মুক্ত থাকলো না। ফলে পানি ভূগর্ভে যেতে পারছে না। যে কারণে ভূগর্ভের পানি ৩০০ ফুটের নিচে নেমে যাচ্ছে। আবার গাছপালা না থাকায় উত্তাপও বেশি শোষণ করছে।’
 
পরিবেশবিদ কামরুজ্জামান বলেন, ‘মানুষ মাটি-বিমুখ হয়ে যাচ্ছে। আমাদের উন্নয়নের বয়ান ও ধারায় সবকিছুতেই পিচঢালা কাঠামোর কথা ভাবছি। তাতে মাটি কিংবা বৃষ্টির পানি মাটি হয়ে ভূগর্ভে যাবে, সেই ব্যবস্থা রাখা হয়নি। যতই গরম হোক না কেন; মাটি দ্রুত শীতল হয়ে যায়। কিন্তু এখন সবকিছু পাকা করে ফেলায় সূর্যের আলো চলে যাওয়ার পর তা শীতল হতে ভোররাত হয়ে যায়।’
 
তিনি বলেন,

শহরে দিনে ও রাতের তাপমাত্রার তারতম্য বেশি দেখা যাচ্ছে না। মাটি থাকলে তাড়াতাড়ি ঠান্ডা হয়ে যেত। কিন্তু মাটি না থাকার কারণে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ছে। আগামীতে খালি জায়গায় উন্নয়ন করার সময় যতটুকু একান্তই দরকার, ততটুকু পাকা করতে হবে। বাকিটুকুতে মাটি রাখতে হবে।

 

মাটির মানুষের যান্ত্রিক জীবন

 

মাটি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মানুষ যান্ত্রিক জীবন যাপন করছে বলে জানান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবান ও রিজিওনাল প্ল্যানিং বিভাগের অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান। তিনি বলেন, ‘মানুষকে বলা হয় মাটির মানুষ। মাটি থেকেই মানুষকে তৈরি করা হয়েছে। এই কথাটার একটা গভীর তাৎপর্য আছে। কারণ মাটির সঙ্গে সম্পর্ক না থাকলে মানুষ মানবিক হবেন না।’

আরও পড়ুন: ঝুঁকিপূর্ণ ভবন সিলগালা করতে রাজউককে চিঠি

 
মাটির সঙ্গে সম্পর্কের অংশ হিসেবে আমাদের বাড়ির আঙিনায় গাছপালা থাকত জানিয়ে এই নগরপরিকল্পনাবিদ বলেন, ‘সেটাকে আমরা ধ্বংস করে কংক্রিট দিয়ে ঢেকে ফেলেছি। এটা প্রথম স্তরের ধ্বংস। এরপরে আগে একতলা কিংবা দোতলা বাড়ি থাকত—কোনোটা তিনতলাও থাকত। সেখান থেকে নিচের মানুষকে দেখা যেতে। বাড়িতে কেউ এলে আই কন্ট্যাক্ট  (চোখাচোখি) হওয়ার সুযোগ ছিল। এছাড়া তখন নিচের ঘাস, গাছপালা দেখা যেত। গাছের ডালে পাখির কিচির-মিচির শোনা যেত। বাতাসে পাতার নড়াচড়া চোখে পড়ত। মাটির ও গাছের ঘ্রাণ এসে নাকে লাগত। এরপর সেই তিনতলা ভবন ছয়তলায় পৌঁছে গেল।’
 
মানুষ কীভাবে যান্ত্রিক হয়ে গেল সেই ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বিআইপির সাধারণ সম্পাদক বলেন, পাঁচতলা হলো একটা ভবনের সর্বোচ্চ পর্যায়, যেখানে গাছ ও মাটির সঙ্গে মানুষের সম্পর্কটা টিকে থাকে। আগে ছয়তলার ওপর আবাসিক ভবন ছিল না। এরপর নগরায়নের নামে ছয়তলা থেকে ১০ তলা পর্যন্ত গেলাম, সেটা চৌদ্দ তলা হলো। এখন সরকারি প্রকল্পেই ২০ থেকে ২২ তলা উঁচু ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে।
 
‘ভবন নির্মাণ যখন টাওয়ারিংয়ে রূপ নিল, এতে মানুষ রোবট বা যন্ত্র হয়ে গেল। যার সাথে গাছপালা, মাটি ও পাখির কোনো সম্পর্ক নেই। কোনো বন্ধু এসে উঁচু ভবনের নিচে দাঁড়ালে উপর থেকে তার মুখও দেখতে পাবেন না,’ বলেন আদিল মুহাম্মদ।
 
তিনি জানান,

এখন আর মানুষের স্কেলের সঙ্গে ভবনের স্কেল মিলে না। এ জন্য যারা টাওয়ারে বসবাস করেন, তাদের সঙ্গে সেই অর্থে মাটির কোনো সম্পর্ক থাকে না। তার কগনেটিভ বিকাশও বাধাগ্রস্ত হয়।

 

‘স্থপতিরা বলেন, একটা আবাসিক ভবন চারতলার বেশি হওয়া উচিত না। এটা অনেকে মানতে চান না, বলেন যে আমাদের ইলিভেটর আছে, আমরা ওপরে উঠতে পারছি। কিন্তু মাটির সঙ্গে সম্পর্ক রাখার ক্ষেত্রে একটি আবাসিক ভবন চার-পাঁচতলার বেশি উঁচু হওয়া উচিত না,’ বলেন এই জবি শিক্ষক।
 
তিনি বলেন, ‘মানুষ বিশ্বাস করে না যে একটি আবাসিক ভবন এতো উঁচু হওয়া উচিত না। অথচ তার শিশুটির সঙ্গে যে প্রকৃতির কোনো সম্পর্ক থাকছে না, সেটা বুঝতে চায় না। সবাই ভাবেন, আমার টাকা হচ্ছে, মাটির বহন ক্ষমতা আছে, এলিভেটর আছে, আমি পঞ্চাশ তলায় থাকব, আমি টপ ভিউ পাব। কিন্তু শিশুর জগতে মাটি, গাছপালা থাকছে না।’
 
‘রুফ-টপে খেলা আর পাড়ার মাঠের মাটিতে খেলা এক জিনিস না। দুটো কখনোই এক হবে না। কাজেই মানুষের বিকাশের জন্য খেলার মাঠ ও পার্ক থাকতে হবে। জীবনের সঙ্গে প্রাণ-প্রকৃতির সম্পর্ক না থাকলে আমরা যন্ত্র হয়ে যাবো,’ বলেন আদিল মুহাম্মদ।

কোন মন্তব্য নেই